Ads Here

Wednesday, May 6, 2020

Thakumar Jhuli Video||ঠাকুমার ঝুলি ||Download

                                   Thakumar Jhuli Video



ঠাকুমার ঝুলি cartoon video এই পেজ থেকে আপনি ভিডিও দেখ তে ও ডাউনলোড করতে পারবেন
আমাদের পেজ টীতে আশার জন ধন্যবাদ । video গুলি ডাউনলোড করতে পেজ টিকে নিচের দিকে 
scroll করুন । আর ও ভিডিও ডাউনলোড করতে এই লিঙ্ক আ ক্লিক করুন thakumajhuli.in

1.সবুজ পাহাড়

2.রানী কলাবতি

3.কিপটে বণিক

4.ঝরনা ও তিন পিশির গল্প


1.Thakumar Jhuli Video সবুজ পাহাড়



2.Thakumar jhuli video cartoon রানী কলাবতি


3.Thakumar Jhuli cartoon video কিপটে বণিক


4.Thakumar Jhuli Golpo ঝরনা ও তিন পিশির গল্প



1.কিপটে বণিক


এক গ্রাম এক  শ্রীচরণ দাস নামে এক ধনি বনিক বাস করত সভাবে সে খুব কৃপণ ছিল একদিন সে হাট থেকে বাড়ি ফেরার পথে হল কি
প্রচণ্ড সূর্য তাপ এ বনিক এর পিটটা কনকন করা তে সে যখন আকাশ এর দিকে তাকাল তখন একটা নারকেল গাছ এ দেখল অনেক ফল
 হয়েছে তখন বনিকের খুব ডাব খেতে ইছে হল তখন পথেই বনিক এর সাথে একজন মানুষ এর দেখা হল তখন লকটি বনিক কে
জিগেস করল বনিক জেতে জেতে দারিয়ে পরল কেন রও জিগেস করল যে বনিক ডাব কাবে কি না তখন বনিক খুব খুশি হয়ে বল্ল ডাব
পেরে দেবার কথা রও বল্ল যে তার খুব তেস্তা পেয়েছে তখন লকটি বল্ল ৬ আনা মজুরি দেতে হবে তখন বনিক বলল পয়সা কি খলাম কুচি
 নাকি তখন লকটি বলল কি এমন বেশি চাইছে সে এই কাট ফাটানই রোদে আত লম্বা গাছে ওঠা কি চারটি খানি কথা তারপর বনিক বল্ল যে
সা পয়শা দেতে পারবে না তখন পয়শা দেবে না বলতে লকটি বনিক কে কিপটে বলে বনিক কে কিপটে বলাতে বনিক খুব রেগে যাই এবং
 লকটিকে মারবার জন্য তার পিছনে দৌড় দেয় তারপর বনিক আবার গাছতের নিচে ফিরে আসে এবং গাছটির ডাব পারবার জন্য ঢেলা ছুরতে
থাকে তারপর একটা ঢেলা বনিক এর মাথা তে এসে পরে তারপর বনিক বুজতে পারে এই ভাবে হবে না তখন বনিক এর মনে পরে যে সে
অতিতে তার যখন তার বয়াস কমছিল সে এই রকম অনেক গাছ এ তে উঠেছে তাই সে ঠিক করল যে সে  নিজে ই গাছে উঠবে তাই সে
নিজে ই গাছে উঠে গেল তারপর সে গাছথেকে ডাব পারতে থাকল তারপর সে যখন গাছ থেকে নিচের দিকে তাকাল তখন সে দেখল যে
সে খুব উছুতে আছে এবং সেখান থেকে সে যদি পরে যাই সে মারা যাবে তাই সে খুব ভয় পেল তখন সে বিপদ তারিনি মা এর কাছে মানত
 করল সে যদি নিচে নামতে পারে তবে সে একশ একজন বাম্ভন কে খায়াবে এবং নিছের দিকে নামতে থাকে এবং সে যখন দেখল সে মাজার
খানে নেবে পরেছে তখন সে ভাবল সে একশ একজন বলে ভুল করেছে তার অনেক খরচা হয়ে যাবে তই সে আবার বিপদ তারিনি মা কে বলে
যে সে একশ একজন বাম্ভন কে খায়াতে পারবে না সে একান্ন জন বাম্ভন কে খায়াবে তারপর সে আবার ও নিচের দিকে নাবতে থাকে আর ও
 নিচের দিকে নেবে দেখে সে এখান থেকে যদি পরে যাই সে মরবে না সুধু হাত পা ভাঙ্গে যাবে তাই সে বিপদ তারিনি মা কে বলল সে ৫১
জন বাম্ভন কে খায়াতে পারবে না  ১১ বাম্ভন কে খায়াবে এই বলে সে নিচের দিকে নাবতে থাকে এবং নিচের নেবে দেখে সব ডাব ফেটে
গেছে তাই সে বিপদ তারিনি মাকে বলল সে ১১ জন না মানদ করেছে যখন সে একজন বাম্ভন কে খায়াবে এই বলে সে বাড়ি চলে যাই
তারপর ব্রাম্ভান গ্রাম এর এক আসুস্ত ব্রাম্ভন কে নেমন্তরন করে ব্রাম্ভন ভজনের জন্য এরপর ব্রাম্ভন দপুরে বনিক এর বাড়ি খাবার জন্য
যায় এবং ব্রাম্ভন এর বউ কে ব্রাম্ভন ভজন এর সমস্ত নিয়ম বলে দেয় এরপর ব্রাম্ভন কে বনিক এর বউ খেতে দেয় এবং ব্রাম্ভন খাবার
এর মধ্য চুল দখতে পাই এর পর সে বনিক এর বউ কে বলে ব্রাম্ভন কে খেতে ডেকে তার খাবার নষ্ট করেছে তাতে যে পাপ হয়েছে
তাতে তাদের সন্সার এর আকলান হবে এই পাপ থেকে মুক্তি পেতে গেলে ব্রাম্ভন কে ১০০ মহর দান করতে হবে তাই বনিক এর
বউ ব্রাম্ভন কে  ১০০ মহর দান করল এদিকে বনিক বাড়ি ফিরে সব কিছু সুনে ব্রাম্ভন এর ওপর খুব রেগে গেল এবং তার বাড়ির দিকে
 চলল এদিকে ব্রাম্ভন বাড়ি ফিরে তার বউ কে শিখিয়ে দেয় তাকে বাড়ির  বাইরে বসে কান্দতে আর বনিক আসলে বলতে যে তার বারি
থেকে খেয়ে আসার পর ব্রাম্ভন আসুস্ত রক্ত বমি করছে তাই সে রাজার কাছে নালিস জানাবে এরপর য়থারিতি বনিক ব্রাম্ভন এর বড়ি
আসল এবং ব্রাম্ভন এর বউ এর মুক থেকে সব কথা সুনে খুব ভয় পেয়ে গেলো এবং বলল বদরী ডাকতে ব্রাম্ভন এর বউ বলল তার কাছে
টাকা নেই তাছাড়া রাজ বদ্রি ডাকতে হবে ২০০ মহর লাগবে তাই সে বনিক এর কাছ থেকে মহর নিল কিপটে বনিক জব্দ হল

2.কাঁকণমালা, কাঞ্চনমালা



এক রাজপুত্র আর এক রাখাল, দুইজনে বন্ধু। রাজপুত্র প্রতিজ্ঞা করিলেন, যখন তিনি রাজা হইবেন, রাখাল বন্ধুকে তাঁহার মন্ত্রী করিবেন।
রাখাল বলিল,-আচ্ছা।”
দুইজনে মনের সুখে থাকেন। রাখাল মাঠে গরু চরাইয়া আসে, দুই বন্ধুতে গলাগলি হইয়া গাছতলে বসেন। রাখাল বাঁশি বাজায়, রাজপুত্র শোনেন। এইরূপে দিন যায়।
রাজপুত্র রাজা হইলেন। রাজা রাজপুত্রের কাঞ্চনমালা রাণী, ভান্ডার ভরা মানিক,-কোথাকার রাখাল, সে আমার বন্ধু! রাজপুত্রের রাখালের কথা মনেই রহিল না।
একদিন রাখাল আসিয়া রাজদুয়ারে ধর্ণা দিল-“বন্ধু রাণী কেমন, দেখাইল না।” দুয়ারী তাঁহাকে “দূর, দূর” করিয়া খেদাইয়া দিল। মনে কষ্টে কোথায় গেল, কেহই জানিলে না।
পরদিন ঘুম হইতে উঠিয়া রাজা চোখ মেলিতে পারেন না। কি হইল, কি হইল?
-রাণী দেখেন, সকলে দেখে, রাজার মুখ-ময় সুঁচ,-মাথার চুল পর্যন্ত সুচ হইয়া গিয়াছে,-এ কি হইল!-রাজপুরীতে কান্নাকাটি পড়িল।
রাজ খাইতে পারেন না, শুইতে পারেন না, কথা কহিতে পারেন না। রাজা মনে মনে বুঝিলেন, রাখাল-বন্ধুর কাছে প্রতিজ্ঞা করিয়া প্রতিজ্ঞা ভাঙ্গিয়াছি, সেই পাপে এ দশা হইল। কিন্তু মনের কথা কাহাকেও বলিতে পারেন না।
সূঁচরাজার রাজসংসার অচল হইল,-সূঁচরাজা মনের দুঃখে মাথা নামাইয়া বসিয়া থাকেন; রাণী কাঞ্চনমালা দুঃখে-কষ্টে কোন রকমে রাজত্ব চালাইতে লাগিলেন।
একদিন রাণী নদীর ঘাটে স্নান করিতে গিয়াছেন, কাহার এক পরমাসুন্দরী মেয়ে আসিয়া বলিল,-“রাণী যদি দাসী কিনেন, তো, আমি দাসী হইব।” রাণী বলিলেন-“সূঁচরাজার সূঁচ খুলিয়া দিতে পার তো আমি দাসী কিনি।”
দাসী স্বীকার করিল।
তখণ রাণী হাতের কাঁকন দিয়া দাসী কিনিলেন।
দাসী বলিল,-“রাণী মা, তুমি বড় কাহিল হইয়াছ; কতদিন না-জানি ভাল করিয়া খাও না, নাও না। গায়ের গহনা ঢিলা হইয়াছে, মাথার চুল জটা দিয়াছে। তুমি গহনা খুলিয়া রাখ, বেশ করিয়া ক্ষার-খৈল দিয়া স্নান করাইয়া দেই।”
রাণী বলিলেন,”না মা, কি আর স্নান করিব,-থাক।”
দাসী তাহা শুনিল না;-“মা, এখন ডুব দাও।”
রাণী গলা-জলে নামিয়া ডুব দিলেন। দাসী চরে পলকে রাণীর কাপড় পরিয়া, রাণীর গহনা গায়ে দিয়া ঘাটের উপর উঠিয়া ডাকিল-
দাসী লো দাসী পান্ কৌ।
ঘাটের উপর রাঙ্গা বৌ!
রাজার রাণী কাঁকনমালা;-
ডুব দিবি আর কত বেলা?”
রাণী ডুব দিয়া দেখিলেন, দাসী রাণী হইয়াছে, তিনি বাঁদী হইয়াছেন। রাণী কপালে চড় মারিয়া, ভিজা চুলে কাঁপিতে কাঁপিতে কাঁকনমালার সঙ্গে চলিলেন।
রাজপুরীতে গিয়া কাঁকনমালা পুরী মাথায় করিল। মন্ত্রীকে বলে,-“আমি নাইয়া আসিতেছি, হাতি ঘোড়া সাজাও নাই কেন?” পাত্রকে বলে,-“আমি নাইয়া আসিব, দোল-চৌদোলা পাঠাও নাই কেন?” মন্ত্রীর, পাত্রের গর্দান গেল।

সকলে চমকিল, এ আবার কি!-ভয়ে কেহ কিছু বলিতে পারিল না। কাঁকনমালা রাণী হইয়া বসিল, কাঞ্চনমালা দাসী হইয়া রহিলেন! রাজা কিছুই জানিতে পারিলেন না।
কাঞ্চনমালা আঁস্তাকুড়ে বসিয়া মাছ কোটেন আর কাঁদেন,-
হাতের কাঁকণ দিয়া কিনলাম দাসী,
সেই হইল রাণী, আমি হইলাম বাঁদী।
কি বা পাপে সোনার রাজার রাজ্য গেল ছার
কি বা পাপে ভাঙ্গিল কপাল কাঞ্চনমালার?”
রাণী কাঁদেন আর চোখের জলে ভাসেন।
রাজার কষ্টের সীমা নাই। গায়ে মাছি ভিনভিন্ সুঁচের জ্বালায় গা-মুখ চিন্চিন্, কে বাতাস করে, কে বা ওষুধ দেয়!
একদিন ক্ষার-কাপড় ধূইতে কাঞ্চনমালা নদীর ঘাটে গিয়াছেন। দেখিলেন, একজন মানুষ একরাশ সুতা লইয়া গাছতলায় বসিয়া বসিয়া বলিতেছে,-
পাই এক হাজার সুঁচ,
তবে খাই তরমুজ!
সুঁচ পেতাম পাঁচ হাজার,
তবে যেতাম হাট-বাজার!
যদি পাই লাখ-
তবে দেই রাজ্যপাট!!”
রাণী, শুনিয়া আস্তে আস্তে গিয়া বলিলেন, “কে বাছা সুঁচ চাও, আমি দিতে পারি! তা সুঁচ কি তুমি তুলিতে পারিবে?”
শুনিয়া, মানুষটা চুপ-চাপ সুতার পুঁটলি তুলিয়া রাণীর সঙ্গে চলিল।
পথে যাইতে যাইতে কাঞ্চনমালা মানুষটির কাছে আপনার দুঃখের কথা সব বলিলেন। শুনিয়া, মানুষ বলিল,-“আচ্ছা!”
রাজপুরীতে গিয়া মানুষ রাণীকে বলিল,-“রাণীমা, রাণীমা, আজ পিঠা-কুডুলির ব্রত, রাজ্যে পিটা বিলাইতে হয়। আমি লাল সুতা নীল সুতা রাঙাইয়া দি, আপনি গে’ আঙ্গিনায় আল্পন দিয়া পিড়ি সাজাইয়া দেন; ও দাসী মানুষ যোগাড়-যোগড় দিক?”
রাণী আহলাদে আটখানা হইয়া বলিলেন,-“তা’ কেন, হইল দাসী, দাসীও আজ পিঠা করুক।” তখন রাণী আর দাসী দুইজনেই পিঠা করিতে গেলেন।
ও মা! রাণী যে, পিঠা করিলেন,-আস্কে পিটা, চাস্কে পিটা আর ঘাস্কে পিটা! দাসী, চন্দ্রপুরী, মোহনবাঁশি, ক্ষীরমুরলী, চন্দনপাতা এই সব পিঠা করিয়াছেন।
মানুষ বুঝিল যে, কে রাণী কে দাসী।
পিঠে-সিটে করিয়া, দুইজনে আলপনা দিতে গেলেন। রাণী একমন চাঁল বাটিয়া সাত কলস জলে শুলিয়া এ-ই এক গোছা শনের নুড়ি ডুবাইয়া, সারা আঙ্গিনা লেপিতে বসিলেন। এখানে এক খাবল দেন, ওখানে এক খাবল দেন।
দাসী আঙ্গিনার এক কোণে একটু ঝাড়-ঝুড় দিয়া পরিস্কার করিয়া একটু চালের গুঁড়ায় খানিকটা জল মিশাইয়া, এতটুকু নেকড়া ভিজাইয়া, আস্তে আস্তে পদ্ম-লতা আঁকিলেন, পদ্ম-লতার পাশে সোনার সাত কলস আঁকিলেন; কলসের উপর চুড়া, দুই দিকে ধানের ছড়া আঁকিয়া, ময়ূর, পুতুল, মা লক্ষ্মীর সোনা পায়ের দাগ, এই সব আঁকিয়া দিলেন।
তখন মানুষ কাঁকণমালাকে ডাকিয়া বলিল,-“ও বাঁদী! এই মুখে রাণী হইয়াছিস?
হাতে কাঁকনের নাগন্ দাসী!
সেই হইল রাণী, রাণী হইলেন দাসী!
ভাল চাহিস তো, স্বরূপ কথা-কে।”
কাঁকণমালার গায়ে আগুণ হল্কা পড়িল। কাঁকণমালা গর্জিয়া উঠিয়া বলিল,-“কে রে পোড়ারমুখো দূর হবি তো হ’।” জল্লাদকে ডাকিয়া বলিল,-“দাসীর আর ঐ নির্বংশে’র গর্দান নাও; ওদের রক্ত দিয়া আমি স্নান করিব, তবে আমার নাম কাঁকণমালা।”
জল্লাদ গিয়া দাসী আর মানুষকে ধরিল। তখন মানুষটা পুঁটলী খুরিয়া বলিল,-
সুতন সুতন নট্খটি!
রাজার রাজ্যে ঘট্ঘটি
সুতন সুতন নেবোর পো,
জল্লাদকে বেঁধে থো।”
এক গোছা সূতা গিয়া জল্লাদকে আষ্টে-পৃষ্ঠে বাঁধিয়া থুইল।
মানুষটা আবার বলিল,-“সুতন্ তুমি কার?-
সুতা বলিল,-“পুঁটলী যার তার।”
মানুষ বলিল,-
যদি সুতন্ আমার খাও।
কাঁকণমালার নাকে যাও।”
সুতোর দুই গুটি গিয়া কাঁকণমালার নাকে ঢিবি বসিল। কাঁকণমালা ব্যস্তে, মস্তে ঘরে উঠিয়া বলিতে লাগিল,-“দুঁয়ার দাঁও, দুঁয়ার দাঁও, এঁটা পাঁগন, দাসী পাঁগন নিয়া আঁসিয়াছে।”
পাগল তখন মন্ত্র পড়িতেছে-
সুতন্ সুতন্ সরুলি, কোন্ দেশে ঘর?
সুঁচ রাজার সুঁচে গিয়ে আপনি পর।”
দেখিতে-না-দেখিতে হিল্ হিল্ করিয়া লাখ সুতা রাজার গায়ের লাখ কুঁচে পারিয়া গেল।
তখন সুঁচেরা বলিল,-
সুতার পরাণ সীলি সীলি, কোন ফুড়ন দি।”
মানুষ বলিল,-
নাগন্ দাসী কাঁকণমালার চোখ-মুখটি।”
রাজার গায়ের লাখ সুঁচ উঠিয়া গেল, লাখ সুঁচে কাঁকণমালার চোখ-মুখ সিলাই করিয়া রহিল। কাঁকণমালার যে ছট্ফটি!
রাজা চক্ষু চাহিয়া দেখেন,-রাখাল বন্ধু!
রাজায় রাখালে কোলাকুলি করিলেন। রাজার চোখের জলে রাখাল ভাসিল, রাখালের চোখের জলে রাজ্য ভাসিলেন।
রাজা বলিলেন,-“বন্ধু আমার দোষ দিও না, শত জন্ম তপস্যা করিয়াও তোমার মত বন্ধু পাইব না। আজ হইতে তুমি আমার মন্ত্রী। তোমাকে ছাড়িয়া আমি কত কষ্ট পাইলাম;-আর ছাড়িব না।”
রাখাল বলিল,-“আচ্ছা! তা তোমার সেই বাঁশিটি যে হারাইয়া ফেলিয়াছি; একটি বাঁশি দিতে হইবে!’
রাজা রাখাল-বন্ধুকে সোনার বাঁশি তৈরী করাইয়া দিলেন। তাহার পর সুঁচের জ্বালায় দিন-রাত ছট্ফট্ করিয়া কাঁকনমালা মরিয়া গেল!
কাঞ্চনমালা দুঃখ ঘুচিল।
তখন রাখাল সারাদিন মন্ত্রীর কাজ করেন, রাত্রে চাঁদের আলোতে আকাশ ভরিয়া গেলে, রাজাকে লইয়া গিয়া নদীর সেই গাছের তলায় বসিয়া বাঁশি বাজান। রাজা গলাগলি করিয়া মন্ত্রী-বন্ধুর বাঁশি শোনেন। রাজা, রাখাল আর কাঞ্চনমালার সুখে দিন যাইতে লাগিল।

3.সাত ভাই চম্পা

এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু,
অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।

এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,-ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা রাজ্য ঘোষণা করিয়া দিলেন,-রাজা
রাভান্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠা-মন্ডা মণি-মাণিক যে যত পার নিয়া যায়। এতে বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল।

রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া বলিলেন-“যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া, ছেলে
দেখিব!” বলিয়া রাজা, রাজ-দরবারে গেলেন। ছোটরাণীর ছেলে হইবে, আঁতুড়ঘরে কে যাইবে? বড়রাণীরা বলিলেন,-“আহা, ছোটরাণীর ছেলে হইবে, তা
অন্য লোক দিব কেন? আমরাই যাইব।”

বড়রাণীরা আঁতুড়ঘরে গিয়াই শিকলে নাড়া দিলেন। অমনি রাজসভা ভাঙ্গিয়া, ঢাক-ঢোলের বাদ্য দিয়া, মণি-মাণিক হাতে ঠাকুর-পুরুত সাথে, রাজা আসিয়া
দেখিলেন,-কিছুই না!
রাজা ফিরিয়া গেলেন।
রাজা সভায় বসিতে-না-বসিতে আবার শিকলে নাড়া পড়িল।

রাজা আবার ছুটিয়া গেলেন। দিয়া দেখিলেন, এবারও কিছুই না। মনের কষ্টে রাজা রাগ করিয়া বলিলেন,-“ছেলে না হইতে আবার শিকল নাড়া দিলে, আমি সব
রাণীকে কাটিয়া ফেলিব।” বলিয়া রাজা চলিয়া গেলেন। একে একে ছোটরাণীর সাতটি ছেলেও একটি মেয়ে হইল। আহা, ছেলে-মেয়েগুলো যে…চাঁদের
পুতুল…ফুলের কলি। আঁকুপাঁকু করিয়া হাত নাড়ে, পা নাড়ে,-আঁতুড়ঘরে আলো হইয়া গেল।

ছোটরাণী আস্তে আস্তে বলিলেন,-“দিদি, কি ছেলে হইল একবার দেখাইলি না!” বড়রাণীরা ছোটরাণীর মুখের কাছে রঙ্গ-ভঙ্গী করিয়া হাত নাড়িয়া, নখ নাড়িয়া
বলিয়া উঠিল,-“ছেলে না, হাতী হইয়াছে,-ওঁর আবার ছেলে হইবে!-কটা ইঁদুর আর কটা কাঁকড়া হইয়াছে।” শুনিয়া ছোটরাণী অজ্ঞান পড়িয়া রহিলেন।

নিষ্ঠুর বড়রাণীরা আর শিকলে নাড়া দিল না। চুপি-চুপি হাঁড়ি-সরা আনিয়া ছেলেমেয়েগুলোকে তাহাতে পুরিয়া, পাঁশ-হাদার পুঁতিয়া ফেলিয়া আসিল। তাহার পর শিকল
ধরিয়া টান দিল। রাজা আবার ঢাক-ঢোলের বাদ্য দিয়া, মণি-মাণিক হাতে ঠাকুর-পুরুত নিয়া আসিলেন; বড়রাণীরা হাত মুছিয়া, মুখ মুছিয়া তাড়াতাড়ি করিয়া কতকগুলো
ব্যাঙের ছানা, ইঁদুরের ছানা আনিয়া দেখাইল। দেখিয়া রাজা আগুন হইয়া ছোটরাণীকে রাজপুরীর বাহির করিয়া দিলেন।

বড়রাণীদের মুখে আর হাসি ধরে না,-পায়ের মলের বাজনা থামে না। সুখের কাঁটা দূর হইল; রাজপুরীতে আগুন দিয়া ঝগড়া-কোন্দল সৃষ্টি করিয়া ছয় রাণীকে মনে সুখে ঘরকান্না
করিতে লাগিলেন। পোড়াকপালী ছোটরাণীর দুঃখে গাছ-পাথর ফাটে, নদীনালা শুকায়-ছোটরাণী দাসী হইয়া পথে পথে ঘুরিতে লাগিলেন।
এম্নি করিয়া দিন যায়। রাজার মনে সুখ নাই, রাজার রাজ্যে সুখ নাই,-রাজপুরী খাঁ-খাঁ করে, রাজার বাগানে ফুল ফোটে না,-রাজার পূজা হয় না। একদিন মালী আসিয়া বলিল-“মহারাজ,
নিত্য পূজার ফুল পাই না, আজ যে, পাঁশগাদার উপরে, সাত চাঁপা এক পারুল গাছে, টুলটুল সাত চাঁপা আর এক পারুল ফুটিয়াছে। রাজা বলিলেন,-“তবে সেই আন, পূজা করিব।”
মালী ফুল আনিতে গেল।

মালীকে দেখিয়া পারুলগাছে পারুলফুল চাঁপাফুলদিগে ডাকিয়া বলিল,-
সাত ভাই চম্পা জাগ রে!”
অমনি সাত চাঁপা নড়িয়া উঠিয়া সাড়া দিল,-
কেন বোন, পারুল ডাক রে।”
পারুল বলিল,-
রাজার মালী এসেছে,
পূজার ফুল দিবে কি না দিবে?”

সাত চাঁপা তুর্তুর্ করিয়া উঠিয়া গিয়া ঘাড় নাড়িয়া বলিতে লাগিল,-
না দিব, না দিব ফুল উঠিব শতেক দূর,
আগে আসুক রাজা, তবে দিব ফুল!”
দেখিয়া শুনিয়া মালী অবাক হইয়া গেল। ফুরের সাজি ফেলিয়া, দৌড়িয়া গিয়া রাজার কাছে খবর দিল। আশ্চর্য হইয়া, রাজা ও রাজসভার সকলে সেইখানে আসিলেন।
রাজা আসিয়া ফুল তুলিতে গেলেন, অমনি পারুল ফুল চাঁপা-ফুলদিগকে ডাকিয়া বলিল,-
সাত ভাই চম্পা জাগ রে!”
চাঁপারা উত্তর দিল,-
কেন বোন্ পারুল ডাক রে?”
পারুল বলিল,-
রাজা আপনি এসেছেন,
ফুল দিবে কি না দিবে?
চাঁপারা বলিল,-
না দিব, না দিব ফুল, উঠিব শতেক দূর,
আগে আসুক রাজার বড় রাণী
তবে দিব ফুল।”
বলিয়া, চাঁপাফুলেরা আরও উঁচুতে উঠিল।
রাজা বড়রাণীকে ডাকাইলেন। বড়রাণী মল বাজাইতে বাজাইতে আসিয়া ফুল তুলিয়া গেল। চাঁপাফুলেরা বলিল,-
না দিব, না দিব ফুল, উঠিব শতেক দূর,
আগে আসুক রাজার মেজরাণী, তবে দিব ফুল।”
তাহার পর মেজরাণী আসিলেন, সেজরাণী আসিলেন, নরাণী আসিলেন, কনেরাণী আসিলেন, কেহই ফুল পাইলেন না। ফুলেরা গিয়া আকাশে তারার মত ফুটিয়া রহিল।
রাজা গালে হাত দিয়া মাটিতে বসিয়া পড়িলেন।
শেষে দুয়োরাণী আসিলেন; তখন ফুলেরা বলিল,-
না দিব, না দিব ফুল, উঠিব শতেক দূরে,
যদি আসে রাজার ঘুঁটে-কুড়ানী দাসী,
তবে দিব ফুল।”
তখন খোঁজ-খোঁজ পড়িয়া গেল। রাজা চৌদোলা পাঠাইয়া দিলেন, পাইক বেহারারা চৌদোলা লইয়া মাঠে গিয়া ঘুটে-কুড়ানী দাসী ছোটরাণীকে লইয়া আসিল।

ছোটরাণীর হাতে পায়ে গোবর, পরনে ছেড়া কাপড়, তাই লইয়া তিনি ফুল তুলিতে গেলেন। অমনি সুরসুর করিয়া চাঁপারা আকাশ হইতে নামিয়া আসিল, পারুল ফুলটি গিয়া
তাদের সঙ্গে মিশিল; ফুলের মধ্য হইতে সুন্দর সুন্দর চাঁদের মত সাত রাজপুত্র ও এক রাজকন্যা “মা মা” বলিয়া ডাকিয়া, ঝুপ্ ঝুপ্ করিয়া ঘুঁটে-কুড়ানী দাসী ছোটরাণীর
 কোলে-কাঁখে ঝাঁপাইয়া পড়িল।

সকলে অবাক্! রাজার চোখ দিয়া র্ঝর্ঝ করিয়া জল গড়াইয়া গেল। বড়রাণীরা ভয়ে কাঁপিতে লাগিল। রাজা তখনি বড়রাণীদিগে হেঁটে কাঁটা উপরে কাঁটা দিয়া পুঁতিয়া ফেলিতে
আজ্ঞা দিয়া, সাত-রাজপুত্র, পারুল, মেয়ে আর ছোটরাণীকে লইয়া রাজপুরীতে গেলেন। রাজপুরীতে জয়ডঙ্কা বাজিয়া উঠিল।

4.ডালিমকুমার

একদেশে ছিল এক রাজপুত্র। তার নাম ডালিমকুমার। সে হাসতো, খেলতো, ঘুরে বেড়াতো। তার মনে ছিল আনন্দ আর আনন্দ। একদিন তার শখ হল
দেশ ভ্রমণে যাবার। যেই না ভাবনা, ডালিমকুমার তার পঙ্খীরাজ হোন্ডা নিয়ে বেড়িয়ে পড়ল অজানার উদ্দেশ্যে। যেতে যেতে যেতে একদিন পৌঁছাল
এক বিশাল প্রাসাদের সামনে। প্রাসাদের চূড়া যেন আকাশ ছুঁয়েছে, সামনে এক বিশাল ফুলের বাগান, এক পাশে চায়ের টেবিল-চেয়ার, একপাশে ছোট্ট
একটা ঝর্ণা। আর সামনে বিশাল একটা গেট।গেটের ওপর লতা-পাতায় ছাওয়া। প্রাসাদটা এত সুন্দর, কিন্তু কেমন নিষ্প্রাণ। আধো আধো অন্ধকার, যেন
সূর্যের আলো পৌঁছায় না ভিতরে, ফুলের বাগানটা হয়ে আছে জংলা, একটা-দুটো জংলী ফুল টিকে আছে কোনরকমে। কোন পাখি নাই, প্রজাপতি নাই।
ডালিমকুমার অবাক হয়ে ভয়ে জবুথবু, ঘুম ঘুম, নিষ্প্রাণ প্রাসাদটা দেখতে লাগল।এমন সময় দোতলার দক্ষিণ দিকের একটা বারান্দার দরজা খুলে গেল।
বেরিয়ে এল এক ঝলক নরম আলো। চোখ কচলে ভাল করে তাকাতেই ডালিমকুমার দেখল আলো নয়, এক রাজকুমারী দাঁড়িয়ে আছে। যেমন চাঁপার মত
গায়ের রঙ, তেমনি মেঘের মত লম্বা চুল, তেমনি চোখ, তেমনি নাক, তেমনি মুখ এত সুন্দর! এত সুন্দর!! এত সুন্দর রাজপুত্র কোনদিন দেখেনি। কিন্তু
রাজকুমারীর মুখে কি যে বিষাদ। এত সুন্দর একটা মানুষের এত কেন মন খারাপ? ডালিমকুমার অবাক হয়ে তাকিয়েই রইল, তাকেয়েই রইল, তাকিয়েই
রইল।রাজকুমারী এসে দাঁড়াতেই চারদিকে যেন প্রাণের সাড়া জেগে উঠল। নেতিয়ে পড়া ফুলগুলো উঠল হেসে, কোত্থেকে উড়ে এল সাদা, নীল, হলুদ
সব প্রজাপতি, বারান্দায় বসে গাইতে লাগল একটা হলদে লেজ ঝোলা পাখি। কিন্তু অল্প কিছুক্ষণ। তারপরেই হঠাৎ রাজকুমারী চমকে উঠে ভিতরে চলে
গেল আর মন খারাপ করে চলে গেল পাখি, প্রজাপতি সব।রাজপুত্র ফিরে এল। কিন্তু ঘুমাতে পারল না সারারাত। সারাক্ষণ তার চোখে ভাসল সুন্দর মুখটা।
সে আবার পরদিন এল, তার পরদিন, তার পরদিন, তার পরদিন, রোজ.........। রাজপুত্রের অবস্থা দেখে মায়া হল প্রাসাদের সামনে বসা এক পান দোকানদারের।
সে রাজপুত্রকে ডেকে বলল রাজকুমারীর গল্প। রাজকুমারীর নাম কঙ্কাবতী। এই প্রাসাদটা কঙ্কাবতীর বাবার। কঙ্কাবতীর বাবা মারা যেতেই তার এক দু:সম্পর্কের
চাচা দেখাশোনার নাম করে দখল করে নিয়েছে এই প্রাসাদ। আর বন্দী করেছে কঙ্কাবতীকে। শুধু তাই না, এখন এক বুড়ো হাবড়া দৈত্যের মতন ব্যবসায়ীর
কাছে জোর করে বিয়েও দিতে চাইছে। কিন্তু কঙ্কাবতী মোটে রাজি না বিয়েতে। তাই শয়তান চাচা কতই না অত্যাচার করে নিরীহ রাজকুমারীর ওপরে। আর
কঙ্কাবতী কেবল কাঁদে আর কাঁদে।এই কাহিনী শুনে ডালিমকুমার কঙ্কাবতীকে বাঁচানোর জন্য অস্থির হয়ে উঠল। কিন্তু কি করে? সমাধান সেই দয়ালু
পানওয়ালাই দিল। কঙ্কাবতীর ছিল একটা ব্যঙ্গমী। আর ডালিমকুমারের ব্যঙ্গমা। ডালিমকুমার ব্যঙ্গমা দিয়ে কঙ্কাবতীকে বার্তা পাঠাল। জানাল নিজের
পরিচয়, জানাল ভালবাসার কথা, জানাল সে কঙ্কাবতীকে উদ্ধার করতে চায় এই বন্দীশালা থেকে। এদিকে হয়েছে কি, প্রাসাদের বারান্দা থেকে রোজ
রোজ দেখতে দেখেতে কঙ্কাবতীও কখন নিজের অজান্তে ভালবেসে ফেলেছে ডালিমকুমারকে। তাই বার্তা পেতেই আর দেরি না করে ফিরতি বার্তায়
নিজের ভালবাসার কথা জানাল কঙ্কাবতী। আর বলল সে এক্ষুণি রাজপুত্রের হাত ধরে চলে আসতে রাজি। কিন্তু কঙ্কাবতীর চাচারতো অনেক ক্ষমতা। সে
কিছুতেই আসতে দিবে না।ডালিমকুমার তখন নিজের বন্ধুদের ডেকে আনল। গোপনে খবর নিল শয়তান চাচার কাজ-কর্মের। জানতে পারল লোকটা মহা
মহা পাজি। যত অন্যায় আর অবৈধ কাজ, চোরাকারবার...সবকিছু করে। কিন্তু ডালিমকুমার যে কঙ্কাবতীকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে সেটা চাচা টের পেয়ে
গেল। সে তার গুন্ডা-পান্ডা দিয়ে ডালিমকুমারকে ধরে আনার পরিকল্পনা করল। কিন্তু কঙ্কাবতী চুপ চুপ করে সেটা শুনে ফেলল। আর তক্ষুণি ব্যঙ্গমী দিয়ে
একটা বার্তা পাঠিয়ে দিল ডালিমকুমারকে। বার্তা পেতেই ডালিমকুমার শয়তান চাচার যত জারি-জুরি ওই দেশের মহারাজার কাছে ফাঁস করে দিল।মহারাজা
তখন তার সৈন্য বাহিনী পাঠাল। তারা সব কাল কাল পোশাক পরা, কী ভীষণ তাদের মূর্তি। সৈন্যরা এসে চাচা আর তার সাঙ্গ-পাঙ্গকে গ্রেফতার করে নিয়ে
গেল। মুক্তি পেল কঙ্কাবতী। মুক্ত হল তার রাজপ্রাসাদ। তারপর মহা ধুমধাম করে রাজপুত্র ডালিমকুমারের সাথে রাজকুমারী কঙ্কাবতীর বিয়ে হয়ে গেল।
আর তারা সুখে-শান্তিতে বাস করতে লাগল।



No comments:

Post a Comment